অপসঙ্গতির প্রতিরােধ এবং অপসঙ্গতির প্রতিকারের উপায়।

অপসঙ্গতির প্রতিরােধ এবং প্রতিকারের উপায় –

উত্তরঃ  ব্যক্তিজীবন তথা শিক্ষাক্ষেত্রে অপসংগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। শিশুর অপসংগতিমূলক আলােচনাগুলি প্রতিরােধ বা নিরাময় করতে না পারলে ব্যক্তিজীবন। তথা সমাজজীবনের অগ্রগতি যথেষ্ট ব্যাহত হয়। ব্যক্তি যত সঙ্গতিবিধানে সক্ষম হবে। ভই সে ব্যক্তিগত সামাজিক জীবনে সুখী ও সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে।প্রতিরােধ বা প্রতিকারে যেসব উপায় অবলম্বন করা প্রয়ােজন সেগুলি হল-

>(১) চাহিদার পরিতৃপ্তি : শিশুদের বিভিন্ন চাহিদাগুলি যাতে তৃপ্ত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। শিশু বা শিক্ষার্থীর চাহিদাগুলি যদি অবাস্তব, অসম্ভব, অসামাজিক ও অস্বাভাবিক না হয় সেদিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, বাবা মা সকলকে সচেতন হতে হবে।

>(২) সঠিক উৎসাহদান : পিতা-মাতা ও শিক্ষক উভয়ের উচিত প্রতিদিন নিয়মিত শিশুদের দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে উৎসাহ দেওয়া। সেগুলি সম্পর্কে যথার্থ নির্দেশ দেওয়া যাতে শিশু সামাজিকীকরণের সম্পর্কে সচেতন থাকে।

>(৩) সঠিক প্রশংসা : শিশু যদি কোনাে ভালাে কাজ করে শিক্ষক বা পিতামাতার উচিত তাকে সেই কাজের জন্য প্রশংসা করা। এই ধরনের প্রশংসা শিশুকে তার মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

>(4) মানসিক চাপমুক্ত হওয়ার পদ্ধতি : মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুন্ন রাখার জন্য বা আরাে উন্নত করার জন্য বিদ্যালয়ে যােগা, একাগ্রতার উন্নয়ন, মানসিক চাপমুক্ত কার্যাবলি ইত্যাদি বিষয়ের আয়ােজন করা যেতে পারে। যাতে শিক্ষার্থী এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। কিভাবে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারে সে বিষয়ে আগে থেকে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

>(৫) দায়িত্ব অর্জন : পিতামাতা শিক্ষকের উভয়ের উচিত শিশু তার বয়স ও তার পরিণমনতা অনুযায়ী তার বিদ্যালয় সংক্রান্ত এবং গৃহ সংক্রান্ত কিছু দায়িত্ব অর্পণ করা।এই ধরনের কাজের দায়িত্ব পেলে শিশুর মধ্যে সামাজিক চেতনা এবং অপরের প্রতি দায়িত্ববােধ জেগে ওঠে।

>(৬) সুস্থ বিদ্যালয় পরিবেশ রক্ষা : শ্রেণিকক্ষে যাতে ছাত্রসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত না ও হয়, সমগ্র বিদ্যালয় যাতে পরিচ্ছন্ন থাকে এবং মূল্যায়নের পদ্ধতি যাতে বিজ্ঞানসম্মত ও নিরপেক্ষ হয় সেইজন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করা প্রয়ােজন।

অপসঙ্গতির প্রতিরােধ এবং অপসঙ্গতির প্রতিকারের উপায়

>(৭) মনােবৈজ্ঞানিক পাঠক্রম এবং পাঠদান পদ্ধতি : বিদ্যালয় পাঠক্রম হবে ৪ বহুমুখী এবং শিশুর চাহিদা ভিত্তিক। এবং পাঠপদ্ধতি হবে মনােবিজ্ঞানসম্মত ও ব্যক্তিবৈষম্য অনুযায়ী। শিক্ষক হবেন উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শিশুর স্বাধীনতার বিষয়ে S সচেতন থাকবেন। এবং তার কৌতূহল প্রবৃত্তি অনুযায়ী পাঠদান করবেন।

>(৮) শিশু মনস্তত্ত্বের সঠিক জ্ঞান : শিশুর মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে পিতামাতার সঠিক জ্ঞান থাকলে তা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সাহায্য করে। মনস্তত্ত্ব নিরিখে তাদের চাহিদা পূরণ করা উচিত।

(৯) নির্দেশনা ও পরামর্শদান : শিক্ষক নিজে যদি শিক্ষার্থীর নির্দেশক ও পরামর্শদাতার ব ভূমিকা পালন করেন তাহলে শিক্ষার্থীর জন্য অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মােকাবিলা ত করা যায় এবং পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিবিধান করে এগিয়ে চলা অনেক সহজ হয়।

>(১০) নৈতিক শিক্ষা : আত্মবিশ্বাস, সহযােগিতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণগুলি যাতে শিক্ষার্থীর মধ্যে জাগ্রত হয় তার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মূল্যবােধের শিক্ষা এর জন্য বিশেষ ক্লাস বা সেমিনারের আয়ােজন করতে পারে। এইসব গুণাবলী ব্যক্তিকে অপসঙ্গতির আচরণ থেকে দূরে রেখে সার্থক সঙ্গতিবিধানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহ করে।

>(১১) সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি করা : বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিভিন্ন রকম চাহিদা দেখা যায়। বিশেষত দলগঠন, সামাজিক স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতির জন্য চাই উপযুক্ত সমাজপরিবেশ। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। ছেলেমেয়েদের দায়িত্ব অর্পনা করা, তাদের সামাজিক সাচতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে অপসঙ্গতি দূর করা যায়। এছাড়া সরকারীভাবে বিভিন্ন কার্যাবলী যেমন—দারিদ্র দূরীকরণ কর্মসূচি, শিশুশ্রম রােধ, নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত সকলের জনা বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রভৃতির দ্বারা অপসঙ্গতি দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। 

মূল্যায়ন :

সবশেষে বলা যায় অপসঙ্গতি প্রতিকারের জন্য ওষুধ প্রয়ােগ অপেক্ষা। পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। শিশুর সঙ্গে পিতামাতার। সম্পর্ক, তার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, বাড়িতে এবং বিদ্যালয়ে শিশুকে পাঠ্যবিষয় শেখানাের পদ্ধতি এবং কাজের দায়িত্ব দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিবর্তন অপসঙ্গতি দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উপসংহার

এই পোস্টে, আমরা আপনাকে “ অপসঙ্গতির প্রতিরােধ এবং অপসঙ্গতির প্রতিকারের উপায়। ” -এর সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে, আর আপনার যদি এই পোস্ট সম্পর্কিত কোনও প্রশ্ন থাকে তবে আপনি আমাদের কমেণ্টের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link