একাদশ শ্রেণির ভূগোল প্রশ্ন উত্তর তৃতীয় অধ্যায় – ভূগোল সাজেশন

২৩. পৃথিবীর কক্ষপথের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখাে ?

যে উপবৃত্তাকার কাল্পনিক পথ ধরে পৃথিবী সূর্যকে ক্রমাগত পরিক্রমণ করে চলেছে, তাকেই বলে পৃথিবীর কক্ষপথ।

পৃথিবীর কক্ষপথের বৈশিষ্ট্যগুলি হল

(i) পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার।

(ii) কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিমি।

(iii) কক্ষপথে পৃথিবীর গতিবেগ হল ঘণ্টায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কিমি বা প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিমি।

(iv) পৃথিবীর কক্ষপথটি যে তলে অবস্থিত, তাকে পৃথিবীর কক্ষতল বলে।

(v) কক্ষপথের দুটি নাভির একটি সূর্যের অবস্থান।

২৪. পৃথিবীর কক্ষতলের বৈষিষ্ট্যগুলি কি কি?

পৃথিবীর কক্ষ যে সমতলে অবস্থিত তাকে বলে কক্ষতল।

পৃথিবীর কক্ষতলের বৈষিষ্ট্যগুলিঃ-

(i) কক্ষতলের পরিধির দৈর্ঘ্য ৯৬ কোটি কিমি।

(ii) পৃথিবীর কক্ষপথের দুই নাভির একটি সূর্যের অবস্থান।

(iii) পৃথিবীর কক্ষতল উপবৃত্তাকার দেখতে।

(iv) সূর্য ও পৃথিবীর কেন্দ্রে একই কক্ষতলের ওপর অবস্থিত।

(v) পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে সর্বদা ৬৬ ১/২ ডিগ্রী কোণে অবস্থান করে।

(vi) পৃথিবীর নিরক্ষীয় তল, কক্ষতলের সঙ্গে ২৩ ১/২ ডিগ্রী কোণে অবস্থান করে।

২৫. পৃথিবীর আবর্তন গতির বৈশিষ্ট্য কি?

যে গতিতে পৃথিবী তার নিজ মেরুদন্ডের ওপর সূর্যকে সামনে রেখে অবিরাম লাটুর মতাে ঘুরে চলেছে, তাকে আবর্তন গতি বলে।

আবর্তন গতির বৈশিষ্ট্যগুলাে হল-

(i) পৃথিবী পশ্চিম পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।

(ii) একটি পূর্ণ আবর্তন গতির সময় হলাে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।

(iii) আবর্তন গতির গতিবেগ বিভিন্ন অক্ষরেখায় বিভিন্ন রকম হয়।

(iv) নিরক্ষরেখায় আবর্তন গতি সবচেয়ে বেশি (১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা) মেরুতে প্রায় শূন্য।

(v) এর ফলে সূর্যের আপাত সঞরণ দেখা যায়।

(vi) দিন রাত্রি সংঘটিত হয়। জোয়ার ভাটা হয়।

(vii) পৃথিবীতে জীবজগতের সৃষ্টি হয়।

(viii) আবর্তন গতির ফলে ১ দিন বা ১ অহ্ন হয় বলে, এই অপর নাম হলাে আহ্নিক গতি।

২৬. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।

যে গতিতে পৃথিবী তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে অনবরত প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তাকেই বলে পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি।

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির বৈশিষ্ট্যঃ

(i) এটি ঘড়ির কাটার বিপরীতে পরিক্রমণ করে।

(ii) সুর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।

(iii) এক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল স্থানে একই গতিবেগ থাকে।

(iv) পরিক্রমণের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিমি বা প্রতি ঘণ্টায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কিমি।

(v) এর ফলে সৌরবছর হয়।

(vi) দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস বৃদ্ধি হয়, ঋতু পরিবর্তন হয়।

২৭. পৃথিবীর অভিগত গােলীয় আকৃতির স্বপক্ষে প্রমান কি?

পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ক্রমাগত আবর্তন করার জন্য কেন্দ্র বহির্মুখী বলের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে, আবর্তনের বলের প্রভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলটি স্ফীত হয়ে যায়। অন্যদিকে, দুই মেরুতে কেন্দ্রমুখী বলের কারণে মেরু প্রদেশ চ্যাপটা বা চাপা হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীর এই অভিগত গােলীয় আকৃতির জন্য পৃথিবীর আবর্তনই দায়ী।

২৮. পৃথিবীর দিনও রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাসবৃদ্ধি হবার কারণ কি?

পৃথিবীতে দিন ও রাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি ঘটার কারণগুলি –

(i) পৃথিবীর গােলাকার আকৃতির জন্য, সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে কোথাও লম্বভাবে, কোথাও তির্যক বা কোথাও অতি তির্যকভাবে পতিত হয়।

(ii) পৃথিবীর আবর্তন গতির ও পরিক্রমণ গতির জন্য পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাসবৃদ্ধি হয়। গতিবেগ

বাড়লে বা কমলে বিভিন্ন স্থানের দিন ও রাত্রের দৈর্ঘ্য কম বেশি হয়।

(iii) পৃথিবীর মেরুরেখা পৃথিবীর কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬/২° কোণে অবস্থান করে, ফলে কখনাে উত্তর গােলার্ধে

 বা কখনাে দক্ষিণ গােলার্ধে সূর্যের দিকে সামান্য হেলে অবস্থান করে।

(iv) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের জন্য সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কখনাে কমে যায়, আবার কখনাে বেড়ে যায়। এই দূরত্বের হ্রাস বৃদ্ধির জন্যও দিন রাত্রের দৈর্ঘ্যের হ্রাস বৃদ্ধি হয়।

২৯. ভূপৃষ্ঠে কোথায় ঋতু পরিবর্তন হয় না ?

ভূপৃষ্ঠে নিরক্ষীয় অঞ্চলে ও মেরু বিন্দু সংলগ্ন অঞ্চলে ঋতুপরিবর্তন হয় না। নিরক্ষরেখায় সূর্য সর্বদাই। লম্বরশ্মি দেয় ফলে সারা বছরই এই অঞ্চলে উয়তা বেশি ও গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। আবার অন্য দিকে, মেরু অঞ্চলে সূর্যের রশ্মি এতটাই তির্যকভাবে পড়ে যে, এখানের উন্নতা খুবই কম থাকে ও সারা বছরই শীতকাল বিরাজ করে। অত্যাধিক উষ্ণতা ও শীতলতার জন্য এখানে ঋতু পরিবর্তন হয় না।

৩০. রবিমার্গ অর্থাৎ সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি পৃথিবীতে কিভাবে তাপের তারতম্য ঘটায়?

তাপের তারতম্যের ওপর রবিমার্গের প্রভাব – 

(i) উত্তরায়ণের সময় পৃথিবীর উত্তর গােলার্ধে সূর্যের দিকে হেলে অবস্থান করে বলে, উত্তর মেরুতে উত্তাপ বেশি হয়, যার ফলে উত্তর গােলার্ধে গ্রীষ্মকালের সূচনা ঘটে ও অন্যদিকে সূর্যের থেকে দূরে অবস্থানের জন্য দক্ষিণ গােলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।

(ii) ২১ শে জুন ককর্ট সংক্রান্তির দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গােলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়াে ও রাত সবচেয়ে ছােটো হয়। উত্তর গােলর্ধে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত দেখা যায়।

(iii) এরপর সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ দিকে সরতে থাকে ও ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে নিরক্ষরেখায় লম্ভবাবে কিরণ দেয়। ফলে পৃথিবীর সর্বত্র দিন রাত্রি সমান হয়। এই সময় উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

(iv) এরপর যখন দক্ষিণায়ন শুরু হয় তখন দক্ষিণ গােলার্ধ। সূর্যের দিকে হেলে থাকে ফলে দক্ষিণ গােলার্ধে হয় গ্রীষ্মকাল ও উত্তর গােলর্ধে হয় শীতকাল।

(v) ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দক্ষিণ গােলার্ধে সবচেয়ে বড়াে দিন ও সবচেয়ে ছােট রাত হয়। উত্তর গােলর্ধে ৬ মাস রাত ও দক্ষিণ গােলর্ধে ৬ মাস দিন এই দিনের পর থেকে শুরু হয়।

(vi) এরপর সূর্য ক্রমশ উত্তর দিকে সরতে থাকে ও ২১ মার্চ তারিখে পুনরায় নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই সময় দক্ষিণ পােলর্ধে শরৎকাল ও উত্তর পােলর্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

উপসংহার

আজকের এই পোস্টে, আমরা আপনাকে “ একাদশ শ্রেণির ভূগোল প্রশ্ন উত্তর তৃতীয় অধ্যায় – ভূগোল সাজেশন ” -এর সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে, আর আপনার যদি এই পোস্ট সম্পর্কিত কোনও প্রশ্ন থাকে তবে আপনি আমাদের কমেণ্টের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্ন উত্তর – ভূগোল সাজেশন

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link