রানী ভিক্টোরিয়া এর জীবনী | Queen Victoria Biography in Bengali

0
25
রানী ভিক্টোরিয়া এর জীবনী
Image source: wikimedia.org

রানী ভিক্টোরিয়া এর জীবনী | Queen Victoria Biography in Bengali


নমস্কার বন্ধুরা আজকের পোষ্টে আমরা জানবো ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়ার সম্পর্কে। রানী ভিক্টোরিয়া (Queen Victoria) কে চিনেন না এমন লোক খুব কমই আছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের ১২ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের সবচেয়ে খ্যাতিমান রানীদের একজন হচ্ছেন তিনি। তার শাসনামলে ভিক্টোরীয় যুগ হিসেবে বিশেষায়িত হয়ে আছে এবং তার শাসনামলেই গ্রেট ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লব সহ নানা ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর সব পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছিল।

সাধারণ মানুষের কাছে যিনি রানী থেকে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন মহারানি মহারানি ভিক্টোরিয়ার জন্ম ১৮১৯ সালের ২৪ শে মে লন্ডন রাজপ্রাসাদে। তারপরও নাম আলেকজান্দ্রিয়া ভিক্টোরিয়া তার মা অবশ্য তাকে ঘৃণা বলে ডাকতেন।

তিনি ছিলেন ডিউক অফ অ্যাওয়ার্ড এর একমাত্র সন্তান ছিলেন তৃতীয় চতুর্থ পত্র ১৮২০ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার বয়স যখন এক বছর পূর্ণ হয়নি তখন তার বাবা মারা যান তার মায়ের নাম প্রিন্সেস।

সেক্সিকই বলোফিন ছিলেন একজন লোকের মেয়ে শিশু অবস্থায় বাবাহারা রানী মূলত বড় হয়েছেন মায়ের কাছেই ছোটবেলায় ভিক্টোরিয়াকে কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়নি। প্রথমদিকে তার মাই তার পড়াশোনা এবং দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতেন।

পরবর্তীতে তার জন্য একজন জার্মান গৃহশিক্ষিকা নিযুক্ত করা হয় যার ফলে ছোটবেলা থেকে রানী জার্মান এবং ইংরেজী দুই ভাষাতেই সমান দক্ষতা অর্জন করেন এবং কখনোই রানী ভিক্টোরিয়া কে একা একা থাকতে হয়নি। তার চারপাশে সর্বদা রাজকর্মচারী সেবিকা লেগেই থাকত এসব অতিরিক্ত তদারকি তার মোটেই ভাল লাগত না।

বরং বিরক্ত লাগত কিন্তু সেসময় কিছুই করা ছিল না ছোট ভিক্টোরিয়ার পক্ষে চতুর্থ উইলিয়াম মারা যান। এরপর হিসেবে মনোনীত করা হয় ২৪ জুন সিংহাসনে আরোহণের দিন অনুযায়ী ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেয়া হয় এবং বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা রানীর দীর্ঘজীবী হোক বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন স্লোগানে মুখরিত হয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছিল মুকুট মাসে দেয়ার পর কিশোরীর রানী ভিক্টোরিয়ার প্রথম নির্দেশ ছিল দয়া করে আমাকে এক ঘণ্টা একা থাকতে দাও।

আসলে রাজ কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে এক দুর্বিসহ করে তুলেছিলেন তাকে কখনো একা থাকতে দিতেন না এছাড়াও রাজপ্রাসাদের কঠোর শাসনের মধ্য দিয়ে তাকে বেড়ে উঠছে হয়েছিল তার একান্ত সময় বলে কিছুই ছিল না। আর যে কারণে রানী হওয়ার পর প্রথম তিনি এই হাদীসটি করেছিলেন যাইহোক অল্পবয়স্ক সুন্দর ইরানের সিংহাসনে বসার পর তার রিলেশন নিয়ে নানা গুজব।

মিরসরাইয়ে ১৮৩৭ সালে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল রানী ভিক্টোরিয়া নাকি তৎকালীন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কে বিয়ে করেছেন এবং উল্টো ক্যাসেলে দুজন নাকি প্রতিদিন একান্ত সময় কাটাচ্ছেন। এই গুজব সত্যি ছিল নাকি মিথ্যা তা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় পরে অবশ্য রানী এই সম্পর্কের নাম দিয়েছিলেন শুধুই বন্ধুত্ব।

তিনি তার ব্যক্তিগত ডায়েরী লিখেছিলেন মেলবোর্ন সৎ এবং বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ দু’বছর পর অর্থাৎ ১৯৩৯ সালের আরেকটি ঘটনা জার্মানি থেকে রানীর চাচাতো ভাই প্রিন্স অ্যালবার্ট বেড়াতে আসেন। ইংল্যান্ডের ছিলেন উচ্চবংশীয় সাহসী যোদ্ধা এবং সুদর্শন যুবক কুমারী রানী এবার তার প্রেমে পড়ে যান, আল বাদরু নাকি ভিক্টোরিয়া কে বিয়ে করতে মুখিয়ে ছিলেন।

কিন্তু ভিক্টোরিয়া তখন গ্রেট বৃটেনের রানী বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার মতো স্পর্ধা দেখানো যায় না, তাই প্রসঙ্গে রানী আলবার্ট কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এবং ১৮৪০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন ১৮৪১ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান জন্ম হয়।

সন্তানের জন্ম হয়েছিল তাদের সংসারে এদিকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ভারতীয় পাশাপাশি অনেক ইউরোপীয় মারা যায়। এরপরই ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি ভারতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক পাশের মাধ্যমে রানী ভিক্টোরিয়া কে ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি কে ভূষিত করা হয়।

শুধুমাত্র ভারতবর্ষের ইংল্যান্ডের উপনিবেশিক শাসনের কারণে কানাডা অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড আফ্রিকা মহাদেশের বিশাল অংশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এ বিষয়ে সাম্রাজ্যের শাসনভার তার হাতে থাকায় ভিক্টোরিয়া রানী থেকে হয়েছেন আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেও রানী ভিক্টোরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়।

ভিক্টোরিয়া প্যালেস ভিক্টোরিয়া কলেজ ভিক্টোরিয়া পার্ক সহ আরো অনেকে স্থাপনা এবং স্থানের নাম তার নামে নামকরণ করা হয় উপনিবেশিক ভারতকে ভালোবাসতেন খুব। ১৮৬১ সালে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্ট রানী এতে অনেকটা মুষড়ে পড়েন।

স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারি দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে সরিয়ে নেন। তিনি এমনকি সংসদ অধিবেশন ডাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন অনেক দিন বিরতির পর রানি সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আবার মানুষের আস্থা অর্জন করেন।

তবে একটি গুজব শোনা যায় স্বামীর মৃত্যুর পর এক স্কটিশ ভিতে সঙ্গে নাকি বেশ অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন রানী ভিক্টোরিয়া। ১৮৬৮ সালের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম গ্লাডস্টোন সঙ্গে রানী ভিক্টোরিয়ার দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল।

বৃটেনের আইন প্রণীত হত ব্রিটিশ সংসদে সরকার কি করতে চলেছে তা জানতে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী রানীর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। সাময়িক প্রসঙ্গে না গলানোর ক্ষমতা রাজপরিবারের ছিল না তবুও রানী ভিক্টোরিয়া ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সৈন্য দেশি থেকে বাঁচাতে নানা উপকরণ পাঠাতে থাকেন।

যুদ্ধে স্বামী হারানোর নারীদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং সৈনিকদের জন্য পদকের ব্যবস্থা করেন জনপ্রিয় এই ব্রিটিশ রানীকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১৮৪০ সালে অক্সফোর্ড নামের এক তরুণ লন্ডনের রাস্তায় রানীর ঘোড়ার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ছিলেন বিকৃত মস্তিষ্কের যুক্তিতে তরুণ ছাড়া পেয়ে গিয়েছিল।

এরপর ১৮৪২ জন উলিয়াম নামে আরেক তরুনীকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

১৮৪৯ সালে ১২৪ নাগরিকদের ঘোড়ার গাড়ির উপর হামলা চালায়। ১৮৮২ সালে স্কটল্যান্ডের এক বিখ্যাত কোভিদ ঘোড়ার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এসব হত্যা প্রচেষ্টা বিফল হওয়ার পাশাপাশি রানীর জনপ্রিয়তাকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

.১৮৮৭ সালে রানের শাসনক্ষমতার ৫০ বছর পূর্তি এবং ১৮৯৭ সালে ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেননা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিল্পায়ন বাষ্পীয় ইঞ্জিন এবং রেলের প্রসার বৃটেনের পাতালের এসব কিছুই ঘটেছিল।

রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনকালে সাম্রাজ্যকে আরো বিশালতায় পরিণত করেছিলেন, তিনি তার বুদ্ধিমত্তা ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যঃ এবং সিংহাসনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় থাকার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েন।

তিনি পরবর্তীতে অবশ্য এ রেকর্ড ভাঙেন বর্তমান বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯০১ সালের ২২ শে জানুয়ারি ৮১ বছর বয়সে এই মহীয়সী রানী অসবর্ন হাউসে পরলোকগমন করেন।

উপসংহার

এই পোস্টে, আমরা আপনাকে  রানী ভিক্টোরিয়া এর জীবনী | Queen Victoria Biography in Bengali ” -এর সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে, আর ভালো লাগলে পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং আপনার যদি এই পোস্ট সম্পর্কিত কোনও প্রশ্ন থাকে তবে আপনি আমাদের কমেণ্ট বক্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আরও পড়ুনঃ

» মার্ক জুকারবার্গ এর জীবনী | Mark Zuckerberg Biography in Bengali

» মানিক বন্দোপাধ্যায় এর জীবনী | Manik Bandopadhyay in Bengali

» চার্লি চ্যাপলিনের জীবনী | Charlie Chaplin Biography in Bengali

» বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন-র জীবনী | Albert Einstein Biography in Bengali

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here